ফসলভিত্তিক সঠিক মাত্রায় কীটনাশক, ছত্রাকনাশক ও আগাছানাশক ব্যবহার কৃষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। প্রতিটি ফসল একটি জীবন্ত প্রাকৃতিক ব্যবস্থা, যেখানে পোকামাকড়, রোগবালাই এবং আগাছা স্বাভাবিকভাবেই থাকে। কিন্তু যখন এগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন ফসলের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয় এবং ফলন মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। এই অবস্থায় সঠিক ও নির্ধারিত মাত্রায় কৃষি-সুরক্ষা উপকরণ ব্যবহার করা ছাড়া ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব হয় না।
তবে এখানে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—ভুল মাত্রা বা অযথা ব্যবহার ফসল রক্ষা করার বদলে উল্টো ক্ষতির কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে মাটির উপকারী অণুজীব ধ্বংস হয়ে যায়, পানির উৎস দূষিত হয় এবং জমির প্রাকৃতিক উর্বরতা কমে যায়। একইভাবে ভুল ছত্রাকনাশক বা আগাছানাশক ব্যবহারে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, পাতায় দাগ পড়ে, ফুল ও ফল ঝরে যায় এবং অনেক সময় পুরো ফসলই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো পোকামাকড়ের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হওয়া। একই ধরনের ওষুধ বারবার বা ভুল মাত্রায় ব্যবহার করলে পোকা ধীরে ধীরে সেই ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে ওঠে। ফলে ভবিষ্যতে একই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ে, কিন্তু লাভ কমে যায়।
এছাড়া নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুলভাবে ব্যবহৃত রাসায়নিক ফসলের মধ্যে অবশিষ্ট থেকে যেতে পারে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বাজারে ভালো দাম পাওয়া এবং রপ্তানির সুযোগ তৈরির জন্যও সঠিক ব্যবহার অপরিহার্য।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সঠিক ফসলভিত্তিক সিদ্ধান্ত, নির্ধারিত মাত্রা অনুসরণ এবং সঠিক সময়ে প্রয়োগ—এই তিনটি বিষয় মেনে চললে কৃষক একদিকে যেমন ভালো ফলন পেতে পারেন, তেমনি জমির স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং দীর্ঘমেয়াদী কৃষি উৎপাদনও সুরক্ষিত থাকে।